এস এম রফিক সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা | শনিবার, ১৪ মার্চ
দেশজুড়ে খেলার মাঠের সংকট দূর করে তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে ফুটসাল খেলার সুবিধা নিশ্চিত করা হবে, যাতে সব বয়সের মানুষ সহজেই খেলাধুলার সুযোগ পায়।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সারাদেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ, উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান।
সভায় প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ঢাকা মহানগরের খেলার মাঠের তীব্র সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, মাঠের জায়গা খুঁজে বের করতে প্রয়োজনে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করা হবে। যেখানে পর্যাপ্ত জায়গা নেই, সেখানে অন্তত দুটি ওয়ার্ডের মাঝামাঝি একটি খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাতেও যদি জায়গা পাওয়া না যায়, তবে তিনটি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে একটি বড় খেলার মাঠ নির্ধারণ করা হবে।
এ ছাড়া বর্তমান প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় ফুটসাল খেলাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে নির্দিষ্ট ফুটসাল মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে খেলার মাঠের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিটি কর্পোরেশন, গণপূর্ত বিভাগ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকা খালি জায়গাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সেগুলো শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি এলাকায় শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। মাঠগুলো শুধু খেলাধুলার জন্য নয়, বরং সব বয়সী মানুষের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। মাঠের চারপাশে সুন্দর ওয়াকওয়ে বা হাঁটার রাস্তা তৈরি করা হবে, যাতে বয়োজ্যেষ্ঠরা নিরাপদ পরিবেশে সকালে ও বিকেলে হাঁটাচলা করতে পারেন।
সভায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পরামর্শে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি এবং উপজেলা সদরে একটি করে খেলার মাঠ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, মাঠটি যেন ইউনিয়নের কোনো প্রান্তে না হয়ে জনপদ ও যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় মাঝামাঝি স্থানে হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাঠ নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত তদবিরকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না; জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব উল আলম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহিদুল হাসান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।