কারিতাসের উদ্যোগে জামালগঞ্জে সার, বীজ ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের সাথে সমন্বয় সভা
আবু ইউসুফ নাঈম
জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চানপুর বাজারে কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ সবজি চাষ সম্প্রসারণে কৃষক, ব্যবসায়ী, সার-বীজ ও কীটনাশক ডিলার এবং বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায়, কারিতাস বাংলাদেশ, সিলেট অঞ্চলের ইমার্জেন্সি লাইভলিহুড সাপোর্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট (ইএলএসআরপি)-এর উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। কারিতাস প্রকল্পের মাঠ সহায়ক জামিল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চানপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হারুন মিয়া।সভায় কেঁচো সার উৎপাদন ও নিরাপদ সবজি চাষের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন কারিতাস বাংলাদেশের ইএলএসআরপি প্রকল্পের জুনিয়র কর্মসূচি কর্মকর্তা স্বপন নায়েক।তিনি বলেন, কেঁচো সার একটি পরিবেশবান্ধব ও কার্যকর জৈব সার, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, ফসলের উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জৈব বর্জ্য ও গোবর ব্যবহার করে সহজেই এ সার উৎপাদন করা সম্ভব। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।তিনি আরও বলেন, কেঁচো সার ব্যবহার করে উৎপাদিত সবজি স্বাস্থ্যসম্মত ও বিষমুক্ত হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা তুলনামূলক বেশি। ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্যের চেয়েও ভালো দাম পেতে পারেন। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনের স্বার্থে বাজারে জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের জন্য পৃথক বিক্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজি বাজারজাতকরণ, কেঁচো সার উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি, দেশীয় জাতের বীজ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে সার, বীজ ও কীটনাশক ডিলারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার এবং নিরাপদ কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাসায়নিক সারের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমিয়ে জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেঁচো সারভিত্তিক কৃষি চর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতৃবৃন্দের প্রতি জৈব ও নিরাপদ পদ্ধতিতে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রয়ের জন্য বাজারে পৃথক স্থান বরাদ্দের আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা জানান, নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।সভায় উপস্থিত ছিলেন বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ জাহেদুল ইসলাম, স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।সমাপনী বক্তব্যে চানঁপুর বাজার কমিটির সভাপতি হারুন মিয়া বলেন- কারিতাসের বিষমুক্ত সবজি চাষ এলাকায় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ এবং উৎসাহ তৈরি করেছে। এক্ষেত্রে বাজার কমিটির পক্ষ থেকে বিষমুক্ত সবজি বাজারজাতকরণে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।