এস এম রফিক সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার
![]()
মেঘনার বুকে ছুটে চলা লঞ্চে হঠাৎই নিস্তব্ধতা—সাত মাস বয়সী এক শিশু তখন শ্বাসকষ্টে ছটফট করছে, জীবন যেন ঝুলে আছে সূক্ষ্ম এক সুতোয়। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে শুরু হয় বাঁচানোর লড়াই। অবশেষে এক ফোনকলই বদলে দেয় দৃশ্যপট জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’-এ সহযাত্রীর আহ্বানেই নড়ে ওঠে উদ্ধারযন্ত্র।গত সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে ভোলা থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী-৩ লঞ্চে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির আকস্মিক অসুস্থতায় লঞ্চজুড়ে নেমে আসে আতঙ্ক। এমন সংকটময় মুহূর্তে এক সহযাত্রী সাহস করে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তা চান।
![]()
কলটি গ্রহণ করেন ৯৯৯-এর কলটেকার কনস্টেবল ফারজানা আক্তার। মুহূর্তেই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বার্তা পাঠানো হয়। পুরো কার্যক্রমের তদারকি ও সমন্বয়ে ছিলেন ৯৯৯ পুলিশ ডিসপাচার এএসআই মোঃ আজগর আলী।
![]()
সংবাদ পাওয়ার পরই নারায়ণগঞ্জের পাগলা থেকে কোস্টগার্ডের একটি চৌকস উদ্ধারকারী দল ছুটে যায় ঘটনাস্থলের দিকে। মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে চলন্ত লঞ্চে পৌঁছে তারা দ্রুত শিশুটিকে অক্সিজেন সহায়তা দেয় যেন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনার এক মরিয়া চেষ্টা।এরপর আর দেরি নয় শিশুটিকে দ্রুতগামী স্পিডবোটে করে নিয়ে আসা হয় সদরঘাটে। সেখান থেকে প্রস্তুত থাকা অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠানো হয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে

এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করলো—সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়াতে ‘৯৯৯’ কেবল একটি নম্বর নয়, এটি এক নির্ভরতার নাম; আর সমন্বিত প্রচেষ্টাই পারে মৃত্যুকে হার মানাতে।